বাগেরহাট জেলার ফকিরহাটে রামপাল তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে ক্রয় করা প্রায় সাড়ে ১৩ লাখ টাকার পরিত্যক্ত অ্যালুমিনিয়াম বোঝাই একটি ট্রাক ডাকাতির ঘটনায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে ট্রাকসহ মালামাল উদ্ধার করেছে। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুক্রবার ভোররাতে ফকিরহাট মডেল থানা পুলিশ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে মূলঘর এলাকার একটি পরিত্যক্ত ইটভাটা থেকে ট্রাক ও মালামাল উদ্ধার করে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন উপজেলার পাগলা উত্তরপাড়া এলাকার মো. জয়নাল আবেদিন (৩৮) ও নলধা গ্রামের মো. জুয়েল শিকদার (৩২)।
পুলিশ ও মামলার বাদী সূত্রে জানা গেছে, রামপাল এলাকার মনিরুল ইসলাম, কামরুল শেখ ও শামিম হাসান যৌথভাবে রামপাল তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে প্রায় সাড়ে ১৩ লাখ টাকার পরিত্যক্ত অ্যালুমিনিয়াম ক্রয় করেন। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মালামালগুলো একটি ভাড়াকরা বিআরটিসি ট্রাকে তুলে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা দেন তারা। পথিমধ্যে রামপাল জিরো পয়েন্ট ও সোনাতোনিয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় স্থানীয় জনতা ট্রাকটির গতিরোধ করে মালামাল যাচাই-বাছাই করেন। সেখানে তামা বা অন্য কোনো অবৈধ মালামাল রয়েছে কি-না তা পরীক্ষা করা হয়।
পরে বৈধ কাগজপত্র ও মালামাল নিশ্চিত হয়ে ট্রাকটি ছেড়ে দেওয়া হয়। এরপর রাত প্রায় ১টার দিকে ট্রাকটি পুনরায় গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা দিলে ফকিরহাট উপজেলার সুকদাড়া এলাকায় পৌঁছালে ১৫ থেকে ১৬ জনের একটি সংঘবদ্ধ ডাকাতদল ট্রাকটির গতিরোধ করে। এসময় ট্রাকচালক ও সঙ্গে থাকা লোকজনকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ট্রাকসহ মালামাল ছিনিয়ে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। ঘটনার খবর পেয়ে ফকিরহাট মডেল থানা পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান শুরু করে। পরে ভোর সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার মূলঘর এলাকার একটি পরিত্যক্ত ইটভাটা থেকে ডাকাতি হওয়া ট্রাক ও মালামাল উদ্ধার করে। একই সঙ্গে ঘটনাস্থল থেকে ২জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ ঘটনায় রামপালের গৌরম্ভা গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে মনিরুল ইসলাম বাদী হয়ে ৮ জনের নাম উল্লেখসহ আরও ১৬ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করে ফকিরহাট থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। ফকিরহাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম বিষয়টি বাসস’কে নিশ্চিত করে বলেন, ‘ডাকাতির খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে ট্রাক ও মালামাল উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় ২জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’ তিনি আরও জানান, মামলার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং গ্রেপ্তারদের বাগেরহাট আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।






