প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেছেন, দেশে শুধু একটি নয়, ধারাবাহিকভাবে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমঝোতা ও সহযোগিতা প্রয়োজন। তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে রক্তপাতহীন ও অংশগ্রহণমূলক করতে রাজনৈতিক দলগুলোকেই আগে দায়িত্বশীল ভূমিকা নিতে হবে। আজ রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের (ইটিআই) সম্মেলন কক্ষে রিপোর্টার্স ফোরাম ফর ইলেকশন এন্ড ডেমোক্রেসির (আরএফইডি) নতুন কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে সিইসি জানান, দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনের মূল্যায়ন জনগণ, গণমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ওপর ছেড়ে দিতে চান তিনি।
তিনি বলেন, নির্বাচন নিয়ে একপাক্ষিক প্রশংসা কিংবা সমালোচনা নয়, বরং সব দৃষ্টিভঙ্গিকে গুরুত্ব দেওয়ার মধ্যেই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য নিহিত। এ এম এম নাসির উদ্দিন আরও বলেন, নির্বাচন কমিশন দায়িত্ব পালনের সময় কোনো রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব করেনি। আইন, বিবেক ও জবাবদিহিতার জায়গা থেকেই কমিশন কাজ করেছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের নিয়ত ছিল একটি ফ্রি, ফেয়ার অ্যান্ড ক্রেডিবল ইলেকশন আয়োজন করা এবং সব প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা।’ সিইসি বলেন, আগের অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচন কমিশনকে পূর্ণ স্বাধীনতা ও সহযোগিতা দিয়েছে। তিনি আরও বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করা হয়নি।
বরং সরকার প্রধান নির্বাচন কমিশনকে স্বাধীনভাবে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দলীয় প্রতীক ছাড়া নির্বাচন হলেও, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ইতোমধ্যেই প্রার্থী মনোনয়নের ঘোষণা দিচ্ছে, যা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করছে। অতীতের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে সিইসি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতে প্রায়ই সহিংসতা ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। তাই রাজনৈতিক দলগুলোর নিজেদের মধ্যে বসে সমঝোতায় পৌঁছানো উচিত। সিইসি আরও বলেন, ‘একটি নির্বাচন ভালো হলেই হবে না, আমরা দেশে ভালো নির্বাচনের একটি স্থায়ী সংস্কৃতি চালু করতে চাই।’ এজন্য রাজনৈতিক দল, ভোটার, সাংবাদিক ও সংশ্লিষ্ট সবার প্রশিক্ষণ ও সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
বক্তব্যে আরএফইডি’র ভূমিকাও তুলে ধরেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার। এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, আরএফইডি শুধু নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম প্রচারে নয়, ছোট-বড় সব রাজনৈতিক দলের বক্তব্যও জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত পরামর্শ ও বিশ্লেষণ থেকেও নির্বাচন কমিশন উপকৃত হয়েছে বলে জানান তিনি। এ সময় তিনি আরও বলেন, মাঠ পর্যায়ে প্রিজাইডিং ও পোলিং কর্মকর্তারাই অধিকাংশ সিদ্ধান্ত নেন। কোথাও ত্রুটি থাকলে তা রাজনৈতিক দল ও স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানের চেষ্টা করা হবে। সিইসি জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আচরণবিধি ও পরিচালনা বিধিমালা সংশোধনের কাজ চলছে।
এসব প্রস্তুতি শেষ করে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করেই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে। এ এম এম নাসির উদ্দিন আরও বলেন, ‘রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতা ছাড়া কোনো ভালো নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব নয়। আমরা আন্তরিকতার ঘাটতি রাখব না, তবে সবার সম্মিলিত সহযোগিতাই হবে সফল নির্বাচনের মূল চাবিকাঠি।’ আরএফইডি’র সভাপতি কাজী এমাদ উদ্দিন জেবেলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেনÑ জাতীয় সংসদের হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহম্মেদ অপু, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ, এনসিপি’র মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দিন পাটওয়ারী, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি হেলাল হাফিজ, ডিইউজে’র সভাপতি শহিদুল ইসলাম ও ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টার-এর সভাপতি ফাহিম আহমেদ।







