বড় ভাইয়ের অফিসে একজন ভদ্রলোকে সঙ্গে পরিচিত হলাম। তারপর কিছুক্ষন কথা বললাম। কথা বলার মাঝে এক সময় আমাদের মাঝে ইসলাম নিয়ে কথপোকথন শুরু হলো। প্রথম দিকে আমার মনে হয়েছে ভদ্রলোক ইসলাম নিয়ে চর্চা ও গবেষণা করে। তারপর ভদ্রলোক ইসলাম নিয়ে বিভিন্ন ঘটনা বলছে। বলার মাঝে ঝাপসার মতো করে পীর-মুরিদ নিয়ে বলার শুরু করলো। এ ঘটনা সে ঘটনা…ইত্যাদি
আমি পাশে বসে মন দিয়ে কথাগুলো শুনছি। মাঝে মধ্যে প্রশ্নও করছি। এ ঘটনা কোথা থেকে সংগ্রহ করেছে। উত্তর পেতাম এভাবে, আল্লাহ এক নেকদার বান্দা বলেছে। ঘটনার কিছু যুক্তও তুলে ধরতেন। ঘটনাগুলো শুনে তখন আমার মনে হয়েছে ইসলাম বুঝি পীর-দরবেশদের উপর ঠায় দাঁড়িয়ে। তারপর আমি অজ্ঞানী, যতটুকু কোরআন-সুন্নাহ জ্ঞান রাখি তা থেকে বলা শুরু করলাম।
আমি খুব ছোট্ট ও সহজ যুক্তি দিয়ে বুঝতে চেষ্টা করলাম। ইসলাম কোনো মানুষ কি’বা পীর-দরবেশদের উপর নির্ভর নয়। বরং কোরআন-সুন্নাহ ভিত্তিতে ইসলাম। যারা কোরআন সুন্নাহ মোতাবেক জীবন পরিচালনা করবে তারাই সঠিক ও সত্যের অনুসারী।
এ কথার ভিত্তি কোরআনের এ আয়াত গুলোতে :
(১) ইহা সেই কিতাব; ইহাতে কোন সন্দেহ নাই, মুত্তাকীদের জন্য ইহা পথ-নির্দেশ, ذٰ لِكَ الْكِتٰبُ لَا رَيْبَۛۚۖ فِيْهِۛۚ هُدًى لِّلْمُتَّقِيْنَۙ সূরা নম্বরঃ ২, আয়াত নম্বরঃ ২
(২) যাহারা অদৃশ্যে ঈমান আনে, সালাত কায়েম করে ও তাহাদেরকে যে জীবনোপকরণ দান করিয়াছি তাহা হইতে ব্যয় করে, الَّذِيْنَ يُؤْمِنُوْنَ بِالْغَيْبِ وَ يُقِيْمُوْنَ الصَّلٰوةَ وَمِمَّا رَزَقْنٰهُمْ يُنْفِقُوْنَۙ সূরা নম্বরঃ ২, আয়াত নম্বরঃ ৩
(৩) এবং তোমার প্রতি যাহা নাযিল হইয়াছে ও তোমার পূর্বে যাহা নাযিল হইয়াছে তাহাতে যাহারা ঈমান আনে ও আখিরাতে যাহারা নিশ্চিত বিশ্বাসী, وَالَّذِيْنَ يُؤْمِنُوْنَ بِمَۤا اُنْزِلَ اِلَيْكَ وَمَاۤ اُنْزِلَ مِنْ قَبْلِكَۚ وَبِالْاٰخِرَةِ هُمْ يُوْقِنُوْنَؕ সূরা নম্বরঃ ২, আয়াত নম্বরঃ ৪
(৪) তাহারাই তাহাদের প্রতিপালক-নির্দেশিত পথে রহিয়াছে এবং তাহারাই সফলকাম। اُولٰٓٮِٕكَ عَلٰى هُدًى مِّنْ رَّبِّهِمْ وَاُولٰٓٮِٕكَ هُمُ الْمُفْلِحُوْنَ সূরা নম্বরঃ ২, আয়াত নম্বরঃ ৫
তারপর তিনি আমার সকল কথা মানলেন। কিছুক্ষন চুপ থেকে প্রশ্ন করলেন। আপনি নামাজ পড়েছেন? আমি বললাল হ্যা। ভদ্রলোক বলে উঠলো আপনি কি বলতে পারেন? আপনার নামাজ কবুল হয়েছে। বললাম নাহ! আমি জানি নাহ আল্লাহ ভালো জানেন। তিনি তারপর বললেন আপনি জানেন নাহ আপনার নামাজ কবুল হবে কি? কিন্তু পীর-দরবেশ বলতে পারে তাদের নামাজ কবুল হবে। শুনে আমি খুবই রাগান্বিত হলাম। কিছুক্ষন চুপচাপ বসে রইলাম।
তারপর উনার তাড়া দেখিয়ে চলে যাওয়ার সময় বললাম ভাই আপনি আমার কোনো কথায় কষ্ট পেলে মাফ করবেন। আর আপনার ইসলামি জ্ঞান ভালো একটু (সিরাত, তাফসিরে ইবনে কাসীর ও প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ) একটু পড়বেন। ভালো থাকবেন।।
বিঃদ্রঃ ভদ্রলোক শিক্ষিত ও মার্জিত কিন্তু কোনো পীরের মুরিদ নয়…
লেখক: https://www.facebook.com/AlorKobi2020







