একটি ইন্টেরপ্রিটেশন বা ব্যাখ্যা অনুযায়ী দাবি করা হয় যে, কুরআনে আছে “পৃথিবী স্থির”
এই দাবির জন্য পেশ করা আয়াতের ব্যাখ্যা দেখুন:
সুরা গাফির (মুমিন) এর ৬৪ নং আয়াতে আল্লাহ বলেন:
اللَّهُ الَّذِي جَعَلَ لَكُمُ الْأَرْضَ قَرَارًا
“তিনিই আল্লাহ যিনি পৃথিবীকে তোমাদের জন্য করেছেন স্থির।”
আয়াতের ব্যাখ্যা এমন যে –
جَعَلَ لَكُمُ الْأَرْضَ قَرَارًا
এই আয়াতের অর্থ এভাবেও করা যায় – “পৃথিবীকে এমনভাবে বানিয়েছেন যেখানে তোমরা স্থির হতে পারো।”
অর্থাৎ ‘ক্বারার’ (قَرَارًا) শব্দটি দিয়ে পৃথিবী স্থির না বুঝিয়ে, মানুষের অবস্থা বোঝানো। আর এর পূর্ণ অবকাশ আরবী ব্যকরণে আছে। আর এভাবে অর্থ করাই উচিৎ। কারণ আয়াতের পরের অংশে আল্লাহ বলেছেন: “এবং আকাশকে বানিয়েছেন ছাদ।”
পুরো আয়াতটি পড়ুন –
اللَّهُ الَّذِي جَعَلَ لَكُمُ الْأَرْضَ قَرَارًا وَالسَّمَاءَ بِنَاءً وَصَوَّرَكُمْ فَأَحْسَنَ صُوَرَكُمْ وَرَزَقَكُم مِّنَ الطَّيِّبَاتِ ۚ ذَٰلِكُمُ اللَّهُ رَبُّكُمْ ۖ فَتَبَارَكَ اللَّهُ رَبُّ الْعَالَمِينَ – 40:64
“আল্লাহই হচ্ছেন তিনি, যিনি তোমাদের জন্য পৃথিবীকে স্থির হবার জায়গায় পরিণত করেছেন এবং আকাশকে করেছেন ছাদ। তোমাদের তিনি আকৃতি দিয়েছেন, আর তোমাদের আকৃতিকে সুন্দর করেছেন। তিনি তোমাদের পবিত্র বস্তু থেকে জীবনোপকরন দিয়েছেন। সুতরাং জগতকুলের প্রভু আল্লাহ কতই না বরকতময়!”[গাফির (মুমিন) ৪০ : ৬৪]
অর্থাৎ এই আয়াতে قَرَارًا শব্দটি দ্বারা পৃথিবী স্থির ব্যাখ্যা না করে, “তোমরা পৃথিবীতে স্থির আছ” ব্যাখ্যা করা হয়েছে। তাৎপর্য হচ্ছে তোমরা ঘরবাড়ি বানিয়ে জমিনে ঠাঁই গ্রহণ করে আছ। এক বাড়িতে ৬০-৭০ বছর জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত কাটিয়ে দিচ্ছ। তোমাদের মাথার উপর আকাশ তোমাদের জন্য ছাদের কাজ দিচ্ছে।
ইমাম ইবন জারীর তাবারী(র.)ও তাঁর তাফসীরে এই ব্যাখ্যাই করেছেন। তিনি বলেন:
( الَّذِي جَعَلَ لَكُمُ الأرْضَ ) التي أنتم على ظهرها سكان ( قَرَارًا ) تستقرون عليها
{তোমাদের জন্য পৃথিবী বানিয়েছেন} যার পৃষ্ঠে তোমরা বসবাস কর, যার উপর তোমরা স্থির আছ।
এখানে এসে কেউ বৈজ্ঞানিক তথ্যের আলোকে এই আয়াতে আকাশকে ছাদ বলার চমৎকার সব হিকমাহও তুলে ধরতে পারে। যেমনঃ আমরা যেই নীল আকাশ দেখে থাকি, সেটা মূলত বায়ুমণ্ডল। এই বায়ুমণ্ডল আমাদের মহাজাগতিক রশ্মি থেকে রক্ষা করছে, ছোটখাট উল্কাকে পুড়িয়ে দিচ্ছে, অতিবেগুনী রশ্মি থেকে হেফাযত করছে, গ্রীনহাউজের কাজ দিচ্ছে ইত্যাদি ইত্যাদি।
এখন কোন বিজ্ঞান না জানা আলেম যদি এই আয়াতের ক্বারার শব্দ দিয়ে বলতে চান যে, “পৃথিবী স্থির”, তাহলে এর অবকাশ তো আরবী ভাষায় আছে। তিনি বিজ্ঞান জানলে অন্য ব্যাখ্যাটা হয়তো নিতেন। কিন্তু পৃথিবী স্থির এমন মন্তব্য করার কারণে তাঁর নিন্দা তো করা যায় না। কারণ বিজ্ঞান না জানা কোন নিন্দনীয় বিষয় না। আর এই বিজ্ঞানের জ্ঞান তো নতুন নতুন সংযুক্ত হচ্ছে। আজকে আমরাও এমন অনেক কিছু জানি না, যা পরবর্তীরা জানবে। এখন আমাদের না জানার কারণে কোন ভুল কথা যদি বলি, তাহলে কি নিন্দিত হব?






