ঢাকাবুধবার , ৩ এপ্রিল ২০২৪
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সুবিধা পেতে মালয়েশিয়ার স্থানীয় নারী বিয়ে করে বিদেশী পুরুষরা

admin
এপ্রিল ৩, ২০২৪ ৫:০০ অপরাহ্ণ

Link copied !

মালয়েশিয়ার তেরেঙ্গানু রাজ্যে জালিয়াতির মাধ্যমে বিয়ে করে স্থানীয় নারীদের শোষণ করছে বিদেশীরা। এমন ঘটনা চিহ্নিত করেছে রাজ্যটির ইমিগ্রেশন বিভাগ। বিদেশী পুরুষরা ইচ্ছাকৃতভাবে স্থানীয় নারীদের লক্ষ্য করে এবং বিয়ে করে শুধুমাত্র তাদের ব্যক্তিগত লাভের আশায়। সোমবার (১ এপ্রিল) রাজ্যের ইমিগ্রেশন পরিচালক আজহার আবদ হামিদ এক বিবৃতিতে একথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, বিদেশীদের প্রায়ই সরকারি সুযোগ-সুবিধা এবং ব্যবসায়িক লাইসেন্স পাওয়ার জন্য স্থানীয় নারীদের সাথে সম্পর্ক গড়ার গোপন উদ্দেশ্য থাকে। বিয়ের পর তারা তাদের দায়িত্বে অবহেলা করে এবং তাদের স্ত্রীদের নামে কাঙ্খিত সুবিধা পাওয়ার পরে তারা তাদের স্ত্রীদের থেকে আলাদাভাবে বসবাস করার ঘটনাও দেখা গিয়েছে।

চলতি বছরের জানুয়ারী থেকে, তেরেঙ্গানুতে এরকম ৬১টি নতুন বিবাহ নিবন্ধিত হয়েছে এবং ১৯২ দম্পতি তাদের সামাজিক ভিজিট পাস নবায়ন করেছে। আজহার বলেন, ২০২২ সালে মালয়েশিয়ান দম্পতিদের পাসপোর্ট বাড়ানোর জন্য ১ হাজার ৯৫টি আবেদন সহ মোট ২৪৩টি নতুন বিয়ের রেকর্ড করা হয় এবং ২০২৩ সালে বিদেশীদের সাথে মোট ৯২৫টি বিবাহ রেকর্ড করা হয়েছিল।

এগুলোর মধ্যে ৭৩টি নতুন বিয়ে এবং বিদ্যমান দম্পতিদের জন্য ৮৫২টি মেয়াদ বাড়ানোর (এক্সটেনশন) আবেদন ইমিগ্রেশনে রয়েছে। কিছু স্থানীয় নারী যারা বিদেশী পুরুষদের সাথে বিবাহিত তাদের মাসিক মাত্র ৩০০ রিঙ্গিত দেওয়া হয়। অবহেলিত নারীদের অনেকেই তাদের বিদেশী স্বামীদের কাছ থেকে আর্থিক সহায়তা হারানোর ভয়ে তাদের বিয়ে ভেঙ্গে দিতে অনিচ্ছুক।

এদিকে ২০২৩ সালের ৪ নভেম্বর, মালয়েশিয়া ইমিগ্রেশনের মহাপরিচালক রুসলিন জুসোহ বলেছিলেন, বিদেশি শ্রমিকরা মালয়েশিয়ান মেয়েদের বিয়ে করলে বিতাড়িত করা হবে। মালয়েশিয়ায় পিএলকেএসধারী (অস্থায়ী ওয়ার্ক পারমিট) বিদেশি কর্মীদের স্থানীয় নাগরিকদের (মেয়েদের) বিয়ে করা ইমিগ্রেশন আইনে নিষিদ্ধ। এ আইন মেনে চলতে ব্যর্থ হলে তাদের ওয়ার্ক পারমিট স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে এবং ইমিগ্রেশন অ্যাক্ট ১৯৫৬/৬৩ (অ্যাক্ট ১৫৫) অনুযায়ী দেশ থেকে বিতাড়ন করা হবে বলেও উল্লেখ করা হয়।

অপরদিকে দেশটির ইমিগ্রেশন আইন ভঙ্গ করে স্থানীয় নারী পিএলকেএসধারী (শ্রমিক ভিসা) কোনো বিদেশিকে বিয়ে করলে পরিত্যক্ত হওয়ার ঝুঁকি সৃষ্টি হয়। দেখা গেছে বিদেশি কর্মীরা বিয়ে করে এবং একটা সময়ে মালয়েশিয়ায় স্ত্রী-সন্তানদের রেখে নিজ দেশে ফিরে যান। তখন এ স্ত্রী-সন্তান পরিত্যক্ত হয়ে যায়। এনজিও তথ্যমতে- এ কারণেই মালয়েশিয়ায় সিঙ্গেল মাদারের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা সামাজিক সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত।

দেশটির ইমিগ্রেশনের মহাপরিচালক দাতুক রুসলিন জুসোহ বলেন, তার ডিপার্টমেন্ট স্থানীয় এবং বিদেশিদের, বিশেষ করে পিএলকেএস ধারকদের বিবাহের বিষয়ে রাজ্যের ধর্মীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলেচনা করবে। উল্লেখ্য, ২০১৯ ও ২০২৩ সালে বেরিতা হারিয়ান দুটি প্রতিবেদন প্রকাশিত করে। সেখানে বলা হয় বিদেশি পুরুষরা, বিশেষ করে পাকিস্তানিরা এদেশে থাকার জন্য এবং ব্যবসা করার জন্য আইনের চোখকে ফাঁকি দিয়ে স্থানীয় মালয় নারীদের বিয়ে করেন।