ঢাকারবিবার , ১৭ মে ২০২৬
আজকের সর্বশেষ সবখবর

দুষ্টচক্র ভেঙে জ্বালানি নিরাপত্তায় ৫ উদ্যোগ সরকারের

admin
মে ১৭, ২০২৬ ১০:৩২ অপরাহ্ণ

Link copied !

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন, জ্বালানি খাতের কাঠামোগত দুর্বলতা ও ‘দুষ্টচক্র’ ভেঙে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার পাঁচটি মূল উদ্যোগ গ্রহণ করবে। আজ রোববার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে আসন্ন বাজেটে নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির সমীকরণ বিষয়ক আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আলোচনা সভাটি সমন্বিতভাবে আয়োজন করে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) ও অনলাইন মিডিয়া ঢাকা স্ট্রিম। রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, উৎপাদন সক্ষমতা ও ব্যবহারের মধ্যে বড় ধরনের ফারাক, অস্বচ্ছ চুক্তি এবং জীবাশ্ম জ্বালানি নির্ভরতা দেশের জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি সংকট তৈরি করেছে। এই দুষ্টচক্র থেকে বেরিয়ে আসতে কাঠামোগত পরিবর্তন জরুরি।

জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের পাঁচটি উদ্যোগ তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রথমত, ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্য সামনে রেখে জ্বালানি মিশ্রণ পুনর্গঠন করা হবে এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ বাড়ানো হবে। দ্বিতীয়ত, সাধারণ ভোক্তা ও শিল্প খাতের জন্য আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে একটি ভারসাম্যপূর্ণ মূল্য কাঠামো নির্ধারণ করা হবে। তৃতীয়ত, নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ ও দেশীয় উৎপাদন উৎসাহিত করা হবে, যাতে আমদানি নির্ভরতা কমে। চতুর্থত, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশীয় সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার এবং গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রম জোরদার করা হবে; এ লক্ষ্যে বাপেক্সের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হবে। পঞ্চমত, নির্দিষ্ট সময়ের জন্য জ্বালানি মজুত নিশ্চিত করতে একটি ‘বেঞ্চমার্ক’ নির্ধারণ করা হবে।

উপদেষ্টা বলেন, অতীতে কিছু গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে জ্বালানি খাত পরিচালিত হওয়ায় প্রতিযোগিতা বাধাগ্রস্ত হয়েছে এবং এতে জনগণের ওপর ভর্তুকির চাপ বেড়েছে। এই কাঠামোগত সমস্যা সমাধান না হলে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না এবং শিল্পায়নও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। নাগরিক সমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তাদের সুপারিশ সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে এবং আগামী বাজেট প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্তির চেষ্টা করা হবে। আলোচনায় অংশ নিয়ে বক্তারা বলেন, বর্তমান জাতীয় গ্রিডে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অবদান মাত্র ৫ শতাংশ, যা খুবই অল্প। জ্বালানি খাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অগ্রাধিকার বৃদ্ধিতে আগামী বাজেটে এডিপিসহ সামগ্রিক বরাদ্দে নবায়নযোগ্য খাতের অংশ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে হবে।

প্রতিবছর ‘ন্যাশনাল অ্যানার্জি ট্রানজিশন রিপোর্ট’ প্রণয়ন ও প্রকাশ বাজেটের সঙ্গে সমন্বিতভাবে জ্বালানি রূপান্তর সংক্রান্ত সব উদ্যোগ, অর্থায়ন ও অগ্রগতি একটি সমন্বিত প্রতিবেদনে তুলে ধরতে হবে। নিজস্ব সক্ষমতা বাড়িয়ে স্টোরেজ সিস্টেমকে ডেভেলপমেন্ট করতে হবে। ইরিগেশনের ক্ষেত্রে ডিজেল পাম্পের পরিবর্তে সোলার পাম্প ব্যবহার করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা (প্রতিমন্ত্রী মর্যাদা) রেহান আসিফ আসাদ নবায়নযোগ্য জ্বালানির গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ইলেকট্রিক যানবাহন ও জ্বালানি সংরক্ষণ প্রযুক্তিকে সমন্বিতভাবে বিবেচনায় নিয়ে একটি সমন্বিত জ্বালানি কৌশল প্রণয়নে কাজ করছে। তিনি আরো বলেন, জ্বালানি সংরক্ষণে লিথিয়াম ব্যাটারির ব্যবহার বাড়াতে সরকার কর ও শুল্ক সুবিধা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে।

এ বিষয়ে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনা চলছে। ইলেকট্রিক যানবাহন (ইভি) প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি ভবিষ্যতের পরিবহন ব্যবস্থা হলেও এর জন্য পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন, চার্জিং অবকাঠামো এবং বিনিয়োগ প্রয়োজন। সরকার ইতোমধ্যে এ খাতে কিছু প্রণোদনা দিয়েছে এবং আরো উদ্যোগ নেওয়া হবে। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। অনুষ্ঠানে ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড (ইডকল)-এর বর্তমান নির্বাহী পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আলমগীর মোরসেদ, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিউবো) নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং গবেষণ ও উন্নয়ন পরিদপ্তরের পরিচালক মনিরুজ্জামান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক মোশাহিদা সুলতানাসহ সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞ ও অংশীজনরা উপস্থিত ছিলেন।