লালমনিরহাট জেলার কৃষি অর্থনীতিতে ক্রমশ: জায়গা করে নিচ্ছে দানা জাতীয় শস্য ভুট্টা। অর্থকরী ফসল হিসেবে বাজারে দাপট বাড়ছে ভুট্টার। কম খরচে বেশি লাভ, কম সেচ ও সারাবছর স্থিতিশীল বাজার চাহিদার কারণে উত্তরাঞ্চলের অন্যান্য জেলার মতো লালমনিরহাটেও ভুট্টা চাষ দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। অনুকূল আবহাওয়া ও রোগবালাই কম হওয়ায় লালমনিরহাট জেলার পাঁচ উপজেলা ও তিস্তার চরাঞ্চলে এর আবাদ সম্প্রসারিত হয়েছে। একসময় পশুখাদ্য হিসেবেই ভুট্টার চাষ হতো। মানবদেহের জন্য উপকারী শস্যদানা হিসেবে সম্প্রতি এর কদর বেড়েছে। এখন ভুট্টা লাভজনক অর্থকরী ফসলে পরিণত হয়েছে।
হাঁস-মুরগি, মাছ ও গবাদিপশুর খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি এবং ভুট্টাজাত পণ্যে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ায় দেশে এর বাণিজ্যিক গুরুত্বও ক্রমশ বাড়ছে। কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, এ বছর লালমনিরহাট জেলায় ৩০ হাজার ৮৮৫ হেক্টর জমিতে ভুট্টার আবাদ হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া ও কৃষি বিভাগের সময়োপযোগী পরামর্শে ফলন ভালো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। সরেজমিনে দেখা যায়, জেলার বিভিন্ন এলাকায় ভুট্টা মাড়াই মৌসুম চলছে। কৃষকেরা ভুট্টা উত্তোলন, মাড়াই ও সংরক্ষণে ব্যস্ত সময় পার করছেন। পাশাপাশি স্থানীয় হাট-বাজারেও ভুট্টা আসতে শুরু করেছে। জেলা সদরের বড়বাড়ী বাজারের ক্রেতা মানিক মহাজন বলেন, বর্তমানে প্রতি মণ ভুট্টা ১ হাজার ৫০ থেকে ১ হাজার ৬০ টাকায় কেনা হচ্ছে।
আগামীতে ভুট্টার দাম বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। ভুট্টা ব্যবসায়ী রাজু মহাজন বলেন, বাজারে ভুট্টার সরবরাহ ও বেচাকেনা বেড়েছে। ক্ষেত থেকে তোলা কাঁচা ভুট্টা প্রতি মণ ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা এবং শুকনো ভুট্টা ১ হাজার ৪০ থেকে ১ হাজার ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তিস্তা চরের কৃষক মঞ্জুল ইসলাম বলেন, ভুট্টা চাষে খরচ কম এবং গাছের প্রায় সব অংশই ব্যবহারযোগ্য । এর পাতা পশুখাদ্য ও ডাঁটা-মোচা জ্বালানি হিসেবে কাজে লাগে। ভালো দাম পাওয়ায় তিনি আবাদ বাড়ানোর পরিকল্পনা করছেন। কালীগঞ্জ উপজেলার কাকিনা ইউনিয়নের কৃষক সোলেমান আলী বলেন, এক বিঘা জমিতে ভুট্টা চাষে খরচ হয় প্রায় ১২ থেকে ১৪ হাজার টাকা।
নিজেই জমির কাজ সম্পন্ন করলে খরচ আরও নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। তিনি জানান, ভালো ফলন হলে প্রতি বিঘায় ৩০ থেকে ৩৬ মণ ভুট্টা উৎপাদন করা যায়। বর্তমান বাজার দর অনুযায়ী খরচ বাদে প্রতি বিঘায় প্রায় ১৬ থেকে ১৮ হাজার টাকা লাভের সম্ভাবনা রয়েছে। লালমনিরহাট সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা খন্দকার সোহায়েল আহমেদ বলেন, ভুট্টা একটি লাভজনক ফসল। এটি স্বাস্থ্যকরও। বিকল্প ফসল হিসেবে কৃষকদের আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভুট্টা চাষে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. মো. সাইখুল আরিফিন জানান, কৃষকদের বীজ, সারসহ কৃষি উপকরণ সহজলভ্য করতে নিয়মিত মনিটরিং ও প্রণোদনা কার্যক্রম চলমান রয়েছে।