আধুনিক বৈজ্ঞানিক ধারণা অনুযায়ী পৃথিবীর প্রত্যেক মানুষের আঙ্গুলের ছাপ সম্পূর্ন ভিন্ন। পৃথিবীর সৃষ্টির প্রথম মানুষ থেকে শুরু করে শেষ মানুষ পর্যন্ত কোনো দুইজন মানুষের আঙ্গুলের ছাপ একই রকম হতে পারে না। আর আঙ্গুলের ছাপে যেসব রেখা আমরা দেখতে পাই, এ রেখার গঠন হয় মাতৃগর্ভের প্রথম তিন মাসে।
এই আঙ্গুলের ছাপেই মানুষের সকল বৈশিষ্ট এনকোড করা থাকে। আঙ্গুলের ছাপ কে জিনের সংরক্ষিত তথ্যের মনিটর হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। জিনের বিকল্প কাজ শুধু মাত্র এই আঙ্গুলের ছাপ দিয়েই করা সম্ভব।
কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন-
সূরাঃ আল-ক্বিয়ামাহ, আয়াত: ৩
اَیَحۡسَبُ الۡاِنۡسَانُ اَلَّنۡ نَّجۡمَعَ عِظَامَهٗ
মানুষ কি মনে করে যে, আমি তার হাড়গুলোকে একত্রিত করতে পারব না।
Does man think that We will not assemble his bones?
আয়াতে এখানে ‘ইনসান’ বলতে কাফের ও নাস্তিককে বুঝানো হয়েছে, যারা কিয়ামতকে বিশ্বাস করে না। কিন্তু তাদের ধারণা ভুল। মহান আল্লাহ অবশ্যই মানুষের সমস্ত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে একত্রিত করবেন। এখানে বিশেষ করে অস্থি বা হাড়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। কারণ, অস্থিই হল (মানবদেহ) সৃষ্টির মৌলিক কাঠামো।
সূরাঃ আল-ক্বিয়ামাহ, আয়াত: ৪
بَلٰی قٰدِرِیۡنَ عَلٰۤی اَنۡ نُّسَوِّیَ بَنَانَهٗ
হ্যাঁ, আমি তার আংগুলের অগ্রভাগসমূহও পুনর্বিন্যস্ত করতে সক্ষম।
Yes. [We are] Able [even] to proportion his fingertips.
আয়াতে بَنَانٌ এর দ্বারা হাত-পায়ের (আঙ্গুলের) অগ্রভাগকে বলা হয়; যা জোড়, নখ, সূক্ষ্ম উপশিরা এবং পাতলা হাড় (চামড়ার উপর সূক্ষ্ম রেখা) ইত্যাদি সমন্বিত থাকে। এত সূক্ষ্ম জিনিসগুলোকে তো আমি ঠিক ঠিকভাবে জুড়ে দেব। তাহলে বড় বড় অংশগুলোকে জোড়া দেওয়া কি আমার জন্য কোন কঠিন কাজ হবে? (আঙ্গুলের অগ্রভাগে যে সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম রেখা আছে এবং তা এমন সূক্ষ্মভাবে সুবিন্যস্ত আছে যে, একজনের আঙ্গুলের ছাপ অন্যজনের সাথে মিলে না। সুতরাং কী আজব কুদরত সেই মহান স্রষ্টার!)
মানব দেহে আঙ্গুলের অগ্রভাগের একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ হচ্ছে আঙ্গুলের ছাপ। এই আঙ্গুলের ছাপ সারা পৃথিবীতে ভিন্ন ভিন্ন মানুষের পরিচয় বহন করে। যা ১৮৯২ সালে ইংল্যান্ডে স্যার ফ্রান্সিস গোল্ট আবিষ্কার করেন যে পৃথিবীতে এমন কোনো ব্যক্তি পাওয়া যাবে না যার আঙ্গুলে ছাপ অন্য কোনো ব্যক্তির সাথে হুবহু মিলে যাবে।
ধারণা আছে, ফিঙ্গার প্রিন্ট তথা আঙুলের ছাপের আবিষ্কারক একজন বাঙালি, কিন্তু সেই আবিষ্কার চুরি করে নেয় তারই ঊর্ধ্বতন ইংরেজ কর্মকর্তা। সে চুরির ঘটনা এখন আর গোপন নেই। ফিঙ্গার প্রিন্ট বা আঙুলের ছাপের আবিষ্কারকের আসল পরিচয় হচ্ছে তিনি খুলনার কাজি আজিজুল হক নামে একজন বাঙালি।
আমাদের নিত্য কাজে যেমন- দলিল-দস্তাবেজ, আইডি কার্ড, অফিস-আদালতের হাজিরা থেকে শুরু করে অপরাধী সনাক্তে আঙ্গুলে ছাপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিয়ামতের দিন আল্লাহ প্রতিটা মানুষকে এতটাই নিখুঁতভাবে তৈরী করবেন যে সেদিন তার আঙ্গুলের অগ্রভাগ অর্থাৎ আঙ্গুলের ছাপ পর্যন্ত অবিকল সেভাবেই গোছানো থাকবে যেরকম এখন পৃথিবীতে।
মোহাম্মদ ইমরান স্বপন: সাহিত্যিক ও গণমাধ্যম কর্মী