বাংলাদেশের দ্রুত নগরায়নের প্রেক্ষাপটে জ্বালানি ব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ ও পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নিম্ন-কার্বন নগর উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে নতুন উদ্যোগ চালু করেছে বাংলাদেশ সরকার ও জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)। আজ বিদ্যুৎ ভবনে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (স্রেডা) এবং ইউএনডিপি যৌথভাবে ‘বাংলাদেশে জ্বালানি-সম্পর্কিত নিম্ন-কার্বন নগর উন্নয়ন (এলসিইউডি)’ শীর্ষক পাঁচ বছর মেয়াদি এই উদ্যোগের উদ্বোধন করে।
এই প্রকল্পে গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন হ্রাসে সহায়তার জন্য গ্লোবাল এনভায়রনমেন্ট ফ্যাসিলিটি (জিইএফ) থেকে ৩.৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের অনুদান পাওয়া যাবে। প্রকল্পের আওতায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি, জ্বালানি-সাশ্রয়ী অবকাঠামো উন্নয়ন এবং নিম্ন-কার্বন নগর পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের দ্রুত বর্ধনশীল শহরগুলোর কার্বন নিঃসরণ কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। এর মধ্যে বিনিয়োগযোগ্য প্রকল্প তৈরি, সরকারি ও বেসরকারি অংশীজনদের মধ্যে সমন্বয় এবং নগরবাসীর মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধিও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিদ্যুৎ বিভাগের সচিবের প্রতিনিধি অতিরিক্ত সচিব কে এম আলী রেজা বলেন, ‘আমদানি করা জ্বালানির ওপর নির্ভরতা আমাদের জ্বালানি স্বনির্ভরতার বড় চ্যালেঞ্জ।’ তিনি জ্বালানি দক্ষতার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, টেকসই আর্থিক সংযোগসহ বিনিয়োগযোগ্য প্রকল্প ও স্কেলেবল ব্যবসায়িক মডেল তৈরি করা জরুরি। ইউএনডিপির ডেপুটি রেসিডেন্ট রিপ্রেজেন্টেটিভ সোনালি দয়ারত্নে বলেন, নগরায়ন একদিকে বড় চ্যালেঞ্জ, অন্যদিকে বড় সুযোগ। সরকারি, বেসরকারি ও উন্নয়ন অংশীদারদের যৌথ উদ্যোগ ছাড়া এই প্রকল্প সফল হবে না।
স্রেডার চেয়ারম্যান মুজাফফর আহমেদ বলেন, এলসিইউডি প্রকল্পটি ফলাফলভিত্তিক ও বিনিয়োগমুখী একটি বাস্তবসম্মত উদ্যোগ। সরকারি সংস্থা, সিটি করপোরেশন ও বেসরকারি খাতের সমন্বয়েই এর সফলতা নির্ভর করছে। প্রকল্পটি ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ দেশের প্রধান নগর এলাকাগুলোতে শক্তি-দক্ষ ভবন, ছাদে সৌরবিদ্যুৎ এবং বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের মতো উদ্যোগকে উৎসাহিত করবে। প্রত্যাশা করা হচ্ছে, এই প্রকল্পের মাধ্যমে পুরো মেয়াদে ১৫ লাখ টনের বেশি গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমানো সম্ভব হবে।