বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে বলেছেন, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ফিরে এসেছে। গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে এখন শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলায় মনোযোগী হতে হবে। আজ বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে সিটিজেনস ফোরাম বাংলাদেশ আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি একথা বলেন। ড. মঈন খান বলেন, ‘আমরা এখন গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ফিরে এসেছি এবং এই মুহূর্তে আমাদের প্রধান দায়িত্ব হলো শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা।’ যুক্তরাষ্ট্রের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে গড়ে ওঠা টেকসই গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো রাজনৈতিক প্রতিকূলতা সত্ত্বেও আমেরিকাকে তার গণতান্ত্রিক চরিত্র বজায় রাখতে সহায়তা করেছে।’
তিনি বলেন, ‘বর্তমান সংসদের ওপর বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে সুরক্ষিত রাখতে সক্ষম শক্তিশালী গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার এক ঐতিহাসিক দায়িত্ব বর্তেছে। প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করতে পারলে এই সংসদ বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।’ বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে মঈন খান বলেন, জনমত প্রকাশের পরিসর উল্লেখযোগ্যভাবে প্রসারিত হয়েছে এবং মানুষ এখন গণমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও মুক্ত আলোচনার মাধ্যমে অবাধে কথা বলছে। তিনি সংসদের ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, বর্তমান এই সংসদ বহু ত্যাগের মাধ্যমে গঠিত হয়েছে।
আমরা এই সংসদকে ভারসাম্য ও দায়িত্ববোধের সঙ্গে এগিয়ে নিতে পারলে বাংলাদেশ ভবিষ্যতের জন্য একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে সক্ষম হবে। বৈঠকের মূল বক্তা অধ্যাপক বোরহান উদ্দিন খান বলেন, বর্তমান সংসদকে অবশ্যই ‘নতুন বাংলাদেশের’ জন্য পথপ্রদর্শক শক্তি হিসেবে কাজ করতে হবে। এই সংসদকে অবশ্যই জাতিকে সঠিক পথ দেখানোর আলোকবর্তিকা হয়ে উঠতে হবে। তিনি বলেন, রাজনৈতিক আন্দোলনগুলোর আত্মত্যাগ যেন কখনো ভুলে যাওয়া না হয় এবং সহনশীলতা ও যুক্তির ওপর ভিত্তি করে একটি গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। বৈঠকের সভাপতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল্লাহ চৌধুরী বলেন, গণতন্ত্র টিকিয়ে রাখার জন্য একটি শিক্ষিত ও মানবিক সমাজ গঠন অপরিহার্য।
একটি আধুনিক শিক্ষানীতি প্রণয়ন করতে পারলে আমরা সমাজ পরিবর্তনে সক্ষম আলোকিত নাগরিক ও দেশপ্রেমিক তৈরি করতে পারব। ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক মামুন আহমেদ বলেন, সরাসরি নির্বাচিত সংসদের প্রতি জনগণের প্রত্যাশা সব সময়ই বেশি থাকে এবং সংসদ সদস্যদের অবশ্যই সেই প্রত্যাশার প্রতি সংবেদনশীল থাকতে হবে। ভিন্নমতের যথাযথ প্রতিনিধিত্ব এবং সংলাপ ও গণতান্ত্রিক চর্চার মাধ্যমে ঐকমত্য গড়ে উঠলে একটি সুস্থ সংসদীয় সংস্কৃতি গড়ে উঠতে পারে। অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার মাহফুজুর রহমান, অর্থনীতিবিদ বদিউল আলম মজুমদার, ফটোগ্রাফার ও সমাজকর্মী শহিদুল আলম, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান। বৈঠকে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।