বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (বাপবিবো)-এর আওতাধীন কেডিপি-২, বিডিপি-২, ডিডিপি-২ ও সিএসডিপি-২ প্রকল্পের কর্মকর্তা/কর্মচারী-গণ বিভিন্ন পদে নিরলস ভাবে কাজ করে প্রকল্পের কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করে। রাজস্বখাতে আত্তীকরণ/নিয়মিতকরণের লক্ষ্যে মহামান্য হাইকোর্ট ডিভিশন রীট পিটিশন নং- ২৪১/১৭ দাখিল করা হলে বিগত ১৪/০৩/২০১৭ খ্রিঃ তারিখ চূড়ান্ত শুনানী শেষে চাকুরী প্রকল্পখাত থেকে রাজস্বখাতে আত্তীকরণ/নিয়মিতকরণ জন্য রায় ও নির্দেশ প্রদান করেন। আরইবি উক্ত রায়ে সংক্ষুব্ধ হয়ে মহামান্য সুপ্রীমকোর্টের আপিল বিভাগে সিপিএলএ নং- ৩১৩৯/১৭ দায়ের করলে গত ০১/০২/২০১৮ খ্রিঃ তারিখ চূড়ান্ত শুনানী শেষে আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায় বহাল রেখে শুধুমাত্র গাইড লাইন মডিফাই করে আত্তীকরণ/ নিয়মিতকরণের ক্ষেত্রে “17 BLC (AD) 91” রায়ের গাইড লাইন বিবেচনায় এনে রায় ও নির্দেশ প্রদান করেন (সংযুক্তি-০১)।
আরইবি উক্ত রায়ের বিপরিতে প্যানেল আইনজীবিগণের মতামত গ্রহণ করেন (সংযুক্তি-০২) এবং উক্ত মতামতের ভিত্তিতে লিগ্যাল এ্যাফেয়ার্স পরিদপ্তর হতে বিগত ০১/০৭/২০১৯খ্রি. তারিখে পিটিশনারগণ-কে আত্তীকরণ করতে হবে মর্মে কর্মচারী প্রশাসন পরিদপ্তরে নথি প্রেরণ করেন (সংযুক্তি-০৩)। তথাপি কর্মচারী প্রশাসন পিটিশনারগণ-কে আত্তীকরণ না করে নিজেদের ব্যাখ্যানুযায়ী এবং আইনজীবির আংশিক মতামত উল্লেখ করে গত ০১৪/০৮/২০১৯খ্রি. তারিখের স্মারক নং- ২৭.১২.০০০০.০২৫.১১.১৯৫.১৭.৩৪১ মূলে বিদ্যুৎ বিভাগের সিদ্ধান্ত/নির্দেশনার জন্য পত্র প্রেরণ করেন (সংযুক্তি-০৪)।
পরবর্তিতে আরইবি কর্তৃক গত ০৭/০২/২০২৪খ্রি. তারিখের স্মারক নং- ২৭.১২.০০০০.০২৫.০৪.১৯৫.২৩-১৬৬২ মূলে প্রেরিত বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে (সংযুক্তি-০৫) এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের গত ২০/১০/২০২২খ্রি. তারিখের স্মারক নং- ০০৪-০০.০০০০.১১১.০৪.১৫২.১৯.১২৫ এর ৩(খ) “যে সকল মামলা সুপ্রীম কোর্টের আপিল বিভাগে চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়েছে, সেগুলোর ক্ষেত্রে আইন ও বিচার বিভাগের মতামত গ্রহণ করে রায় বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে” (সংযুক্তি-০৬) নির্দেশনা অনুযায়ী আত্তীকরণ বিষয়ে বিদ্যুৎ বিভাগ কর্তৃক আইন ও বিচার বিভাগ, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মতামত গ্রহণ করা হয়। তৎপ্রেক্ষিতে বিদ্যুৎ বিভাগ গত ১৮/০৮/২০২৪খ্রি. তারিখে স্মারক নং- ২৭.০০.০০০০.০৪৬.০৪.০১৩ (অংশ-১৩).২২-১৯৭ অলোকে মহামান্য আদালতের রায় এবং আইন ও বিচার বিভাগ, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সুষ্পষ্ট মতামতের আলোকে পিটিশনারগণ-কে রাজস্বখাতে আত্তীকরণের জন্য আরইবি-কে সিদ্ধান্ত/নির্দেশনা প্রদান করেন (সংযুক্তি-০৭)।
কিন্তু আরইবি মতামত প্রাপ্তির প্রায় ২ মাস অতিবাহিত হলেও অদ্যবধি বিদ্যুৎ বিভাগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পিটিশনারগণ-কে আত্তীকরণ করা হয়নি বরং মহামান্য আদালতের রায় এবং আইন ও বিচার বিভাগ, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সুষ্পষ্ট মতামত এবং বিদ্যুৎ বিভাগের সিদ্ধান্ত ও নির্দেশনা অমান্য করে ও চেয়ারম্যান মহোদয়ের অনুমোদন ব্যতিত ক্ষমতার অপব্যবহার করে পুনরায় আরইবি প্যানেল আইনজীবির নিকট গত ২৭/০৮/২০২৪খ্রি. তারিখে কর্মচারী প্রশাসন ডাইরি নং-৩৭৯ অনুযায়ী আইনগত মতামত প্রদানের জন্য নথি প্রেরণ করে (সংযুক্তি-০৯) সময় ক্ষেপণ করছে এবং বিষয়টি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার পায়তারা করছেন; যা প্রবিধানমালা-২০১৮ এর অসদ আচারণের সামিল।
উল্লেখ্য, আরইবির একই ধরণের মামলায় (17 BLC) একই ভাবে বিগত ০৪/০৪/২০১৬খ্রি. তারিখে বাপবিবোর ৫ (পাঁচ) জন আইনজীবির মতামতের ভিত্তিতে উপস্থাপিত নথিটি তৎকালীন চেয়ারম্যান মহোদয়ের অনুমোদিত স্বাক্ষর সম্পাদনের পরও কর্মচারী প্রশাসন মামলাভুক্ত ৫ (পাঁচ) জন কর্মকর্তাকে রাজস্বখাতে আত্তীকরণ না করে নথিটি গোপন করে সম্পূর্ণ নিজেস্ব ব্যাখ্যা অনুযায়ী চিঠি প্রদান করেন (সংযুক্তি-১০); যা অনুমোদিত নথির সাথে সাংঘর্ষিক। তাছাড়া, বাংলাদেশের সরকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানসমূহ যেমন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, যুব ও ক্রিয়া মন্ত্রণালয়, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, এলজিইডি এবং মৎস্য অধিদপ্তর সহ অনেক প্রতিষ্ঠানই 17 BLC গাইডলাইনের নির্দেশনার ও আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মতামতের আলোকে রায় বাস্তবায়ন করে রাজস্বখাতে আত্তীকরণ করেন। উক্ত প্রমাণকসমূহ পিটিশনারগণ ইতোপূর্বে (২০১৯ সাল হতে) অনেকবার আবেদন পূর্বক দাখিল করেন তা আরইবি আমলে নেয়নি।
আরো উল্লেখ্য যে, পল্লী বিদ্যুত সমিতির ক্ষেত্রে শুধুমাত্র বিদ্যুৎ বিভাগের একটি সিদ্ধান্ত ও নির্দেশনার আলোকে আরইবি কমিটি গঠনের মাধ্যমে স্বল্প সময়ের মধ্যে পল্লি বিদ্যুৎ সমিতির প্রায় ৫০০০ (পাঁচ হাজার) এর বেশি সংখ্যক চুক্তিভিত্তক নিয়োগকৃত জনবলকে সরাসরি নিয়মিতকরণ করা হয়েছে। তাছাড়া শুধু মাত্র একটি আবেদনের প্রেক্ষিতে প্যানেল হতেও জনবল নিয়োগ করা হয়েছে। অপর দিকে আমাদের হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগের সুস্পষ্ট রায় ও নির্দশনা, আইন, বিচার ও সংসদ মন্ত্রণালয়ের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা সহ মতামত এবং বিদ্যুৎ বিভাগের সিদ্ধান্ত ও নির্দেশনা থাকা সত্বেও আত্তীকরণ না করে আরইবি কালক্ষেপণ করছেন এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন; যা চরম স্বেচ্ছাচারিতা ও দূর্নীতির সামিল।
আরইবি কতিপয় ব্যক্তি ২০১৬ সাল হতেই উক্ত বিষয়টি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করে এরুপ কর্মকান্ডের মাধ্যমে আরইবিতে বিশৃঙ্খলা ও অপ্রিতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে আরইবির ভাবমূর্তি নষ্ট করার পায়তারা করছে এবং দেশের পরিস্থিতি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করছেন। এতে স্পষ্ট প্রতিয়মান হচ্ছে যে, একটি বড় অদৃশ্য শক্তি আপিল বিভাগের রায় বাস্তবায়ন না করে জনবলকে রাজস্বখাতে আত্তীকরণ না করার বিষয়ে চরম ভূমিকা রাখছে; যা চরম দুর্নীতির সামিল। মহামান্য আদালতের রায় (সিপিএল নং-৩১৩৯/২০১৭, রায় ০১/০২/২০১৮খ্রি.) এবং আইন ও বিচার বিভাগ, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সুষ্পষ্ট মতামতের আলোকে বিদ্যুৎ বিভাগের প্রদত্ত নির্দেশনা/সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পিটিশনারগণ-কে অনতিবিলম্বে রাজস্বখাতে আত্তীকরণ করে আরইবির আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীলতা প্রদর্শন করতে হবে মর্মে পিটিশনারগণ জোর দাবি জানান। এবিষয়ে দেশেরে সকল স্তরের ছাত্র-জনতাসহ দেশ সংস্কারে দৃঢ় প্রত্যয়ী, বৈষম্য বিরোধী সরকারের সংশ্লিষ্ট সম্মানিত ব্যক্তিবর্গ ও সুশিল সমাজের বিজ্ঞ ব্যক্তিবর্গদের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করি।