ঢাকাবৃহস্পতিবার , ৭ মে ২০২৬
আজকের সর্বশেষ সবখবর

চুক্তিতে সম্মত না হলে ইরানে নতুন হামলার হুমকি ট্রাম্পের

admin
মে ৭, ২০২৬ ১২:০২ পূর্বাহ্ণ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার ইরানকে সতর্ক করে বলেছেন, শান্তি চুক্তিতে সম্মত না হলে দেশটির ওপর নতুন করে বোমা হামলা চালানো হবে। হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার পরিকল্পনা স্থগিত করার পর এই হুমকির মাধ্যমে তিনি সমঝোতার চাপ আরও বাড়ালেন। কয়েক সপ্তাহের অচলাবস্থার পর আলোচনায় ফেরার ইতিবাচক ইঙ্গিত দেখা দেয়, যখন ট্রাম্প ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামে পরিচিত হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল নির্দেশনা দেওয়ার পরিকল্পনা স্থগিত করেন। মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানও সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে। ওয়াশিংটন থেকে এএফপি জানায়, ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে লিখেছেন, ‘ইরান যদি সম্মত হয়, তাহলে ইতোমধ্যেই কিংবদন্তিতে পরিণত হওয়া ‘এপিক ফিউরি’ অভিযান শেষ হবে এবং কার্যকর অবরোধের ফলে হরমুজ প্রণালী ইরানসহ সবার জন্য উন্মুক্ত হবে।

তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, চুক্তি না হলে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা ‘আগের চেয়ে অনেক বেশি মাত্রা ও তীব্রতায়’ আবার শুরু হবে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানান, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব এখনো পর্যালোচনায় রয়েছে এবং ‘চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পর’ তা পাকিস্তানকে জানানো হবে। এর আগে ট্রাম্প দাবি করেন, তেহরানের সঙ্গে ‘পূর্ণাঙ্গ ও চূড়ান্ত চুক্তি’র দিকে ‘বড় অগ্রগতি’ হয়েছে, যদিও তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি। তিনি আরও বলেন, চুক্তি চূড়ান্ত ও স্বাক্ষরিত হয় কিনা তা দেখতে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে। তবে ইরান নিজে থেকে হরমুজ প্রণালী বন্ধ রাখায় যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি। গত মাসে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত প্রাথমিক আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বলেন, ট্রাম্পের ‘সাহসী নেতৃত্ব’ ও ‘সময়সোপযোগী ঘোষণা’ একটি চুক্তির পথ সুগম করতে পারে।

তিনি এক্স-এ লিখেছেন, ‘বর্তমান গতি আমাদের আশাবাদী করছে যে এটি একটি স্থায়ী সমঝোতায় পৌঁছাবে, যা অঞ্চল ও বিশ্বের জন্য দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করবে।’ যুক্তরাষ্ট্র এখন হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া এবং সংঘাত বন্ধে ইরানের সঙ্গে চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছেছে বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অীরড়ং জানিয়েছে, দুই মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, উভয় পক্ষ যুদ্ধের অবসান ঘটাতে ‘এক পাতার সমঝোতা স্মারক’-এ একমত হওয়ার কাছাকাছি রয়েছে। তেলের দাম কমছে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি বুধবার বেইজিংয়ে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-এর সঙ্গে বৈঠক করেন। যুদ্ধ শুরুর পর এটি তার প্রথম চীন সফর। রাষ্ট্রীয় টিভিতে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আরাকচি বলেন, যুদ্ধ অবসানে চলমান আলোচনার অগ্রগতি নিয়ে তারা আলোচনা করেছেন।

পরবর্তীতে এক্স-এ তিনি জানান, যুদ্ধ-পরবর্তী একটি আঞ্চলিক কাঠামো গঠনে চীনের সমর্থন প্রত্যাশা করছে ইরান। বৈঠকের পর ওয়াং ই দ্রুত শত্রুতা বন্ধ এবং উভয় দেশের হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার আহ্বান জানান। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মর্কো রুবিও চীনকে আহ্বান জানান, প্রণালী অবরোধ তুলে নিতে ইরানের ওপর চাপ প্রয়োগ করতে। রুবিও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান শেষ হওয়ার ঘোষণা দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরই ট্রাম্প তুলনামূলক নমনীয় অবস্থান নেন। এই ঘোষণায় বিনিয়োগকারীরা ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখান। আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ও ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের নিচে নেমে আসে এবং শেয়ারবাজারে উত্থান দেখা যায়। তবে তেহরানে এক বাসিন্দা এএফপিকে বলেন, বর্তমান সরকারের সঙ্গে যেকোনো চুক্তির সম্ভাবনা ‘ভীতিকর’।

৪৩ বছর বয়সী অনুবাদক আজাদেহ বলেন, ‘আমরা এত কষ্ট ও দুর্ভোগ সহ্য করেছি, কিন্তু মানুষের জন্য কোনো অর্জন নেই। আমি শুধু চাই এই শাসন শেষ হোক।’ তিনি আরও বলেন, পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চিত থাকায় ‘মানসিক চাপ খুবই তীব্র’। ‘উচ্চ সতর্কতা’ ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শেষ হওয়ার ঘোষণা সত্ত্বেও হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে এবং উভয় পক্ষই একে অপরের ওপর হামলার অভিযোগ করছে। সোমবার ইরান যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে, তারা ছয়টি ইরানি নৌযানে হামলা চালিয়েছে, যেগুলো বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে হুমকি দিচ্ছিল। ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর এটিই ছিল সবচেয়ে বড় উত্তেজনা বৃদ্ধি।

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হিগসেথ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত চায় না, তবে নতুন কোনো হামলা হলে ‘ধ্বংসাত্মক জবাব’ দেওয়া হবে। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় দেশগুলো জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে একটি প্রস্তাব তৈরি করেছে, যেখানে ইরানকে হামলা বন্ধ, মাইন বসানোর স্থান প্রকাশ এবং টোল আরোপের চেষ্টা বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। অন্যদিকে, ইসরাইল বুধবার দক্ষিণ লেবাননের অন্তত দুটি গ্রামে হামলা চালায়। দেশটির সেনাপ্রধান এয়াল জামির সেনাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বলেন, প্রয়োজনে ইরানের বিরুদ্ধে ‘শক্তিশালী ও ব্যাপক অভিযান’ চালাতে তারা প্রস্তুত এবং ‘সর্বোচ্চ সতর্কতায়’ রয়েছে।